সাইকো বা সিরিয়াল কিলারের বিভিন্ন ধরন
এখনো পর্যন্ত প্রধানত সিরিয়াল কিলারকে চার ধরনে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন মানসিকতার সাইকো কিলার রয়েছে। সিরিয়াল কিলারদের মোটিভ সাধারণত তাদের বিকৃত মানসিকতার ওপর নির্ভর করে থাকে। কিভাবে খুন করবে,খুনের পদ্ধতি, ভিক্টিমের সঙ্গে আচরণ সবটাই ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে কারন এক এক বিকৃত মানসিকতার মানুষের আচরণ এক একরকম হয়ে থাকে।এই চার ধরনের সিরিয়াল কিলার হল-
হেডোনিস্টিক
মিশন ওরিয়েন্টেড
ভিশনারি সিরিয়াল কিলার
পাওয়ার এন্ড কন্ট্রোল সিরিয়াল কিলার
1) হেডোনিস্টিক সিরিয়াল কিলার-
এই ধরনের সাইকো কিলাররা মূলত কয়েকটি উদ্দেশ্য দ্বারা চালিত হয়ে খুন করে থাকে, থ্রিল সিকার, যৌণ লালসা, সম্পত্তি লুঠ ইত্যাদি।
●থ্রিল সিকার- এই ধরনের সিরিয়াল কিলার মূলত রোমাঞ্চ পছন্দ করে। তারা তাদের জীবনে রোমাঞ্চ পছন্দ করে। তারা চায় পুলিশ মিডিয়ার লোকজন তাকে নিয়ে চর্চা করুক। কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার মতই এরাও তাদের জীবনকে রোমাঞ্চিত করে তুলতে চায়। কাউকে খুন করার আগে ম্যাসেজ পাঠানো কিংবা নিজেদের করা খুনের সমস্ত রেকর্ড এরা নিজের কাছে রেখে দিতে পছন্দ করে। হয়তো সেই রোমাঞ্চের অনুভূতি বা স্বাদ পুনরায় গ্রহণের জন্যে।
রবার্ট হ্যানসেন এই ধরনের একজন থ্রিল কিলার। মোট 17 জন মহিলাকে খুন করেছিল সে। খুন করার আগে তার নির্দিষ্ট একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে ভিক্টিমদের ছেড়ে দিত। তারপর তাদের সঙ্গে খেলিয়ে খেলিয়ে শিকার করে খুন করত শুধু মাত্র মজা উপভোগ করার জন্যে।
●যৌণ লালসা- ভিক্টিমকে রেপ করে যৌণ তৃপ্তি পাওয়াই মূলত এদের খুনের উদ্দেশ্য।
●আবার অভাবে বা কোনো সংকটে পড়ার কারনে অর্থ লুঠের উদ্দেশ্যে খুন করে থাকে।
এই ধরনের কিলাররা খুনের আগেই অনেককিছু প্ল্যান করে রাখে। দীর্ঘদিন ধরে ভিক্টিম কে ফলো করে প্ল্যান সাজানো, খুনের পর নিখুঁত ভাবে সব প্রমান মুছে ফেলা এদের বৈশিষ্ট্য। মূলত ভিক্টিম কে অস্ত্র দিয়ে মারা বা রেপ করে হত্যা করে এরা।
2) মিশন ওরিয়েন্টেড-
এই ধরনের কিলাররা মূলত নিজেদের কিলার মনে করেন না। তারা মনে করে সমাজের হিতের কারনে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেনীর মানুষকে মেরে ফেলা দরকার। যেমন- দেহ ব্যবসায়ী, ড্রাগ ব্যবসায়ী, হোমোসেক্সুয়াল প্রভৃতি।এরা থাকলে সমাজের ভালো হবে না। তারা নিজেদের এই মিশনের প্রেক্ষিতে চালিত করে থাকে এবং তাদের চোখে সমাজের জন্যে ক্ষতিকর ঐ নির্দিষ্ট শ্রেনীর মানুষকে খুন করে থাকে। নির্দিষ্ট শ্রেনীর মানুষকেই শুধু নিজেদের টার্গেট করতে থাকায় এদের ধরে ফেলা কিছুটা হলেও সহজ হয়ে যায়।
3) ভিশনারি সিরিয়াল কিলার-
এই ধরনের সিরিয়াল কিলার বা সাইকোপ্যাথেরা দাবি করে থাকেন যে কোনো অলৌকিক শক্তি বা দেবতারা বা অপশক্তির দেবতারা তাদের খুন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ধরনের সিরিয়াল কিলাররা আগে থেকে কোনো প্ল্যান করে খুন করে না।
হারবার্ট মুলিন একজন ভিশনারি সিরিয়াল কিলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় 13 জন মানুষকে খুন করেছিলেন তিনি। ধরা পড়ার পর তিনি খুনের কারন হিসেবে বলেছিলেন যে, তিনি কোনো অলৌকিক আদেশ পেয়েছিলেন যে, ক্যালিফোর্নিয়া কে ভয়ংকর ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে তা না হলে সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে। আর এই কারনে দরকার মানুষের মৃত্যুর।
4) পাওয়ার এন্ড কন্ট্রোল-
এই ধরনের সিরিয়াল বা সাইকো কিলাররা মূলত নিজেদের শক্তির আস্ফালন করতে তৃপ্তি বোধ করেন। ভিক্টিমের ওপর অত্যাচার করে তারা তাদেরকে পাওয়ারফুল ভাবতে চান। এই ধরনের সাইকোরা মূলত নিজেরাই ছোটোবেলায় হয়তো বুলিং এর শিকার হয়ে থাকে যার কারনে সেই সময়ে নিজেদের দুর্বল মনে করা ব্যক্তিটি বর্তমানে ভিক্টিমের ওপর অত্যাচার করে নিজের শক্তির যাচাই করতে চায়। রেপ করা এদের কোনো যৌন তৃপ্তি দেয় না। এটাও মূলত তারা শক্তি প্রদর্শনের জন্যেই করে থাকে।
সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে বেশি সংখ্যক কিলারই পাওয়ার এন্ড কন্ট্রোল এর মানসিক পর্যায়ে হয়ে থাকেন। গ্যারি রিজওয়ে, ডেনিস রেডার হলেন এই পর্যায়ের সিরিয়াল কিলার। ভিক্টিমের ওপর নিজের প্রভাব খাটিয়ে খুন করার প্রক্রিয়াতে এরা মজা পায়।
সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে যারা আগে থেকেই সব প্ল্যান করে খুন করে থাকে তাদের IQ লেভেল অনেক উচ্চ মাত্রার হয়ে থাকে। খুন করার অনেক আগে থেকেই এরা নিজেদের ভিক্টিমের ওপর নজরদারি করে থাকে। খুন করার পরেও প্রমান লোপাট করার ক্ষেত্রে এরা খুবই সচেতন। তাই এদের ধরা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।এদের বলা হয় অর্গেনাইজড সিরিয়াল কিলার। বেশিরভাগ খুনিই অর্গেনাইজড হয়ে থাকে।
অন্যদিকে যারা খুনের আগে কোনো প্ল্যান করে না তাদের IQ লেভেল অনেক কম হয়ে থাকে। এরা আনঅর্গেনাইজড।খুন করার জায়গাও নির্দিষ্ট করা থাকে না। প্রমান লোপাটের ব্যাপারেও এরা উদাসীন। এরা খুন করার পর মূলত শহর ত্যাগ করে এমনকি দেশও ত্যাগ করে থাকে।

0 Comments