পথ চলা(ওয়ারফেজ)-গান পর্যালোচনা

গান পর্যালোচনা
গানের নাম: পথচলা
ব্যান্ডদল : ওয়ারফেজ
ঘরানা: হেভি মেটাল
প্রকাশকাল: ১৯৯৭
অ্যালবাম: জীবনধারা
গানের দৈর্ঘ্য:৬ মিনিট ৮ সেকেন্ড

আমি লিরিক্স নিয়েই কথা বলবো,জানি না চিন্তাধারা কতটুকু মিলবে। কারণ ব্যাপারটা আসলে মনস্তাত্ত্বিক, এক এক জনের কাছে এক এক রকম লাগতে পারে গানের অর্থ। আমি চেষ্টা করবো যতটা পারি ব্যাখ্যা করতে, বাকিটা তো আপনারা নিজেরাই বুঝবেন।
তাহলে চলুন শুরু করি।

সদস্যরা:-
ভোকাল -সঞ্জয় (লিড ভোকাল)
গিটার :- ইব্রাহিম আহমেদ কামাল
ড্রামস:- শেখ মনিরুল আলম টিপু
বেস:- বাবনা করিম (লিড ভোকাল; হারমোনি ভোকাল)
কির্বোডস:- ফুয়াদ ইবনে রাব্বী


"এ মন উন্নাস, ক্ষিপ্ত, রিক্ত
পথ চেনা, নেই কোনো আনন্দ
অথচ এমন কত উৎসাহে রচে সদা তন্ময় বসন্ত"

একজন একাকীত্বের মানুষ বা নিজের এককীত্বর সাথে লড়তে লড়তে ক্লান্ত মানুষ, যার সব ধরনের পথই চেনা আছে,কষ্টের ভেতর দিয়ে নিজেকে তুলে ধরেছেন। কিন্তু কখনো আনন্দের উৎসবে হারাতে পারেননি।
কিন্তু হায় দুর্ভাগ্য, এই আনন্দের জন্যই তার সব। কিন্তু পৃথিবীর সব কিছুই আনন্দের বসন্তে সমান ভাবে কেটে যাচ্ছে। এখানে একটা আক্ষেপই প্রকাশ পায়।

"আমি আশ্বাস, সুরেরই নিঃশ্বাস শুনেছি
যখন তোমায় চুমি
তবুও ভাবিনি তোমায়, নিষ্ঠার মূর্তি তুমি
মুগ্ধ নিমিষের ছবি"

যখন হুট করেই আনন্দটা হাতের মুঠোতে এসে পড়ে। তখন আনন্দে আমরা আত্মহারা হয়ে পড়ি।যে আনন্দে দুঃখ থেকে বা কষ্ট থেকে বের হই,তখনই দেখি মরীচিকার মতো আনন্দরা হারিয়ে যায়। যদিও আশ্বাস দিয়ে থাকে বা ওই মুহূর্তটা মনে হয় কত চেনা, কখনো হারাবে না। কিন্তু আমরা এক সময় অবাক হয়ে দেখি,তারা দল বেঁধে হারিয়ে যাচ্ছে বহু দূরে।


"মোর ঘরের মাঝে পাঁচিল ভেঙে
আসে বাস্তুহারার শত কান্না
প্রতিটি সন্ধ্যায় একা একা বসে ভাবি
বিটোফেন, শংকর আর না"

বাস্তহারার মানে হল যাদের ভিটে মাটি নেই। অর্থাৎ যখন আমরা আনন্দের নামে সব লিখে দেই,সুখী থাকবো বলে, ঠিক তখনই কষ্টেরা এমন ভাবে আগমন করে,যেন মনে হয় এরা অন্যের জমিতে আক্রমন করতে বের হয়ে এসেছে আমাদের মাঝে, যাদের নিজেদের কোনো সম্পত্তি বলতে কিছু নেই। 
তখনই,আমরা কি করি? গান শুনি অথবা মনের মতো একটা বই নিয়ে বসি। শংকর একজন ভারতীয় বাঙালী লেখক এবং বিটোফেন হলেন সুরের সম্রাট। যাঁর কম্পোজের খাতা বিশাল এবং পিয়ানোর সুর পৃথিবীর সমস্ত জায়গা জুড়ে বহমান।

"এ পৃথিবীর কালো জলে, বিদ্যুতে
বাজে পুড়ে জ্বলুক লক্ষ নদী
হয়তোবা আমি তার পাশে বসে দেখছি
পল ক্লি, মাতিসের ছবি"

এই জায়গায় ঈশ্বরের কাছে সাহায্য চেয়েছেন গীতিকার।যেন তার কষ্টদের থেকে রক্ষা করেন ঈশ্বর এবং এই আনন্দে তিনি "পল ক্লি" এবং "মাতিসের" সেরা সব চিত্রকর্ম গুলো দেখে কাটাতে চান সময়।


"অথচ কি আনন্দ, কি ভয়াবহ আনন্দ!
মদিরা চালে দেখো নর-নারী চলে
কামনা-বাসনা দূরন্ত
অথচ এই পরকীয়া, দূর্বহ এই আল্পনা
লক্ষ রক্ত চোখ নীলিমা চিরে খোঁজে আশা, ভালোবাসা
হায়, আশা, ভালোবাসা"

এখানে মনে হচ্ছে গীতিকার একটু মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন। মাতাল নারী-পুরুষদের চলাফেরা দেখে। তারা কি করে এত আনন্দে থাকে? কি করে সব কষ্ট দূর করে এই পৃথিবীতে আনন্দের বন্যায় ভাসে?
এই সব কিছু এক দিকে দূরে ঠেলে,দ্বৈত সত্তাকে বার বার বুঝানোর চেষ্টা করছেন। একদিন আমরাও ভালোবাসা পাবো, সে দিনের আশায় থাকি। তবুও আশা না ছাড়ি। 
হতাশ না হই। সব কিছুর শেষে আনন্দ আসবে। তারই অপেক্ষায় আশা নিয়ে বেঁচে থাকি।

আমি ইনস্ট্রুমেন্ট নিয়ে কিছু বলতে চাই না।ওয়ারফেজের লাইন আপ নিয়ে বিচার করার মতো ক্ষমতা নেই। তাই আগেই বলে দিয়েছিলাম, আমি শুধু লিরিক্স নিয়ে কথা বলবো। ওয়ারফেজ এমন একটা ব্যান্ড যা লিজেন্ড জন্ম দিচ্ছে।তাই তাদের নিয়ে অর্থাৎ কামাল ভাই,টিপু ভাই,সঞ্জয় দা এদের নিয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজন আদৌ আছেও বলে মনে হয় না।

ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,
'ওয়ারফেজ' নিয়ে এই প্রথম লেখা। 
ধন্যবাদ।

-নরকীট

Post a Comment

0 Comments