লিলু (পর্ব- 8)


প্রিয় লিলু,

কেমন আছো? নিশ্চই খুব ভালো আছো, চিঠি লেখার কথা আমার ছিল না, তবুও লিখি। লিখতে বসলে লিখতেই ইচ্ছে করে। মাথা ধরে আসে মাঝে মাঝে, খবরের পাতা উল্টালেই দেখি মৃত নারীর ছবি। 

বিস্মিত হই আমি। আমি,আমি তোমাকে ছুঁয়ে দিতে পেরেছিলাম হৃদয়ের অন্তস্থল হতে,পায়ের পাতার সাদা ত্বকেও। কোথাও আমার অবধারিত মৃত্যু হয়নি।

খবরের পাতা উল্টালে যখন দেখি, কোনো নারীর মৃত চোখ তাকিয়ে আছে আমার দিকে। মনে হয়,মনে হয় আমি মানুষ না। আমি একটা জ্বলন্ত বাঁশের কঞ্চি।

আমরা ভালোবেসে চুম্বন করেছিলাম ঠোঁটের উপরিভাগে। পার্কের গলিতে স্তনে হাত পরতেই তোমার রক্তিম চোখ জোড়া, এখনো আমাকে ভাবায়। তুমি চেয়েছিলে কি? 

আমাদের যদিও নিরেট কোনো স্বচ্ছ সম্পর্ক ছিল না। মেয়ের নামে পদ্ম অথবা ছেলের নামে সমুদ্র কিনা, ঠিক হয়নি কখনো। তবে ভালোবাসাটা কিন্তু সমুদ্রের জলের মতো স্বচ্ছ ছিল। তাই হয়তো ফাঁক-ফোকর দিয়ে দেখা গিয়েছিল ভুলভ্রান্তি ভরা এক যৌনকর্মের আসক্তির ভুল।

তোমার জন্য রাত জাগা টিএসসির কষ্ট আর গাঁজার আসরে বসা প্রয়াত প্রেমিক একই কথা। আমাদের ঠিকানা দরজার চৌকাঠ, বিছানার বালিশ আর না হয় একটু বেশি হলে হুডতোলা রিক্সা। তোমার ফুলের মতো চুল ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত শহর জুড়ে, আমি সোডিয়ামের আলোয় হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকাদের হিসাব কষতাম।
দেখতাম,আমি এই সমস্ত শহর জুড়ে স্যাড ভায়োলিনের সুর হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছি, স্থায়ী হচ্ছি না কোথাও। 

প্রিয় লিলু,আমার একান্ত ব্যক্তিগত অতীত। তুমি,তুমি আমার, আমার একান্তই সময়ের দামে কেনা অতীত। যাকে ছাড়া, আমার গত সাতটি বছর কালের গহ্বরে হারিয়ে যাবে। যেন একটা ব্ল্যাক হোল তুমি আর আমি আলোর গতিতে ছুটে আসা এক চিলতে বেদনার নাম মানুষ।

-নরকীট 

Post a Comment

0 Comments